প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বছর ঘুরতেই বিধানসভা নির্বাচন। হাতে বাকি আর কয়েকটা মাস। তাই জনগণের নজর কাড়তে এখন থেকেই উঠে পড়ে লেগেছে শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধী দলগুলি। চলছে একের পর এক দলীয় বৈঠক। কিন্তু সরকারী প্রকল্পগুলি নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক প্রশাসনিক বৈঠকে উষ্মা প্রকাশ করে আসছেন। অভিযোগ একটাই, আর সেটি হল সরকারি কাজে ব্যাপক নজরদারির অভাব রয়েছে। তাই এ বার সব দফতরকে কড়া শিক্ষা দিতে বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন।
গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন
Join Now
তথ্যের কারচুপি রুখতে বড় উদ্যোগ নবান্নের
সূত্রের খবর, গত সোমবার রাজ্যের অর্থ দফতর এর তরফ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। যেখানে জানানো হয়েছিল যে, এ বার থেকে প্রতিটি দফতরের সব সরকারি প্রকল্পের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য ইউনিফায়েড প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম পোর্টালে (UPMS Portal) নথিভুক্ত করতে হবে। এমনকি এই নথিভুক্তকরণ এর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে গত মঙ্গলবার থেকে। এর মাধ্যমে কোনো প্রকল্পের তথ্যের কারচুপি আর হবে না। এই নিয়ে রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন যে, ‘‘নির্বাচনের জন্য নয়, শুধুমাত্র সরকারি প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাজের দ্রুত গতিশীলতা বজায় রাখতেই এই হেন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে রাজ্য সরকার।”
কী বলছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য?
এমনকি এই একই কথা শোনা গিয়েছে রাজ্য সরকারের প্রথম সারির আধিকারিকদের মুখে। তাঁদের অনেকের বক্তব্য, গ্রামীণ বাংলায় সরকারের কাজ যাতে দ্রুত হয়, মানুষের কাছে সরকার সম্পর্কে যাতে ইতিবাচক বার্তা যায়, প্রতিটি স্তরে যাতে রাজনৈতিক সুবিধা পৌঁছয় সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে। আসলে শাসকদলের একটি অংশ মনে করে, সরকারি কাজে আমলাদের কাজে ধীর গতির জন্য ‘ফলো আপ’ প্রক্রিয়া সঠিক ভাবে হচ্ছে না। যার ফলে ‘নেতিবাচক প্রভাব’ গিয়ে পড়ছে সকলের উপর। তাই এই উদ্যোগ। কিন্তু সমালোচকদের মতে প্রশাসনের এই উদ্যোগ আদতে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটকে টার্গেট রেখেই করা হচ্ছে। সবটাই ভোট আদায়ের পন্থা।
বাছায় করা খবর নিজের মোবাইলে পেতে
Join Now
প্রসঙ্গত, এত দিন রাজ্য সরকারের পূর্ত, জনস্বাস্থ্য কারিগরি, সেচ, জলসম্পদ, কেএমডিএ এবং পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতরের অধীন সমস্ত প্রকল্পের তথ্য UPMS পোর্টালে দিতে হত। তবে এ বার সমস্ত প্রকল্পের নথি এবং প্রতি দিনের খতিয়ান তুলে ধরতে হবে। সবটাই দ্রুততার সঙ্গে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে। আর তাই সেই লক্ষ্যে সরকারি আধিকারিকদের জন্য বিশেষ অ্যাপেরও বন্দোবস্ত করছে রাজ্য সরকার। যার মাধ্যমে সরকারি আধিকারিকরা ঘরে বসেও রিপোর্ট দেওয়ার জমা নেওয়ার কাজ শেষ করতে পারবে।