প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এলাকার কাছাকাছি দূরত্বে টুকটাক যাতায়াতে সকলেরই প্রথম পছন্দ ছিল টোটো। রোদ বৃষ্টির হাত থেকে একদিকে যেমন বাঁচোয়া ঠিক তেমনই আবার ব্যাটারিচালিত এই যান খুব তাড়াতাড়ি গন্তব্যে নিয়েও যায়। কিন্তু এই টোটোর যেমন ভালো দিক রয়েছে তেমনই রয়েছে খারাপ দিক। আসলে গত কয়েক বছরে রাজ্যে টোটোর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। শহর বা শহরতলীর একাধিক জায়গায় বেড়েছে যানজট। টোটো নিয়ে উঠেছে বিস্তর অভিযোগ। তার উপর টোটো চালকদের দাদাগিরি পার করে ফেলছে সমস্ত ধৈর্য্যের সীমা। তাই এবার বড় পদক্ষেপ নেওয়া হল প্রশাসনের তরফ থেকে।
টোটো নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত পুরসভার
বর্তমানে সারা বাংলা জুড়ে প্রায় ১০ লক্ষ টোটো রয়েছে। দিনের পর দিন রাস্তায় টোটোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েই চলেছে। এদিকে আবার টোটোর জন্য কোনও নির্দিষ্ট রুট পারমিট করতে হয় না। ফলে যে কোনও জায়গায় যেতে পারেন টোটো চালকরা (Toto Drivers)। তাইতো সারা বাংলা জুড়ে বহু বেকার যুবক টোটো চালিয়ে রোজগার শুরু করে আসছে। কিন্তু এই দাপট এবার কমাতে এবং জনসাধারণের যাতায়াতের সমস্যা দূর করতে কড়া পদক্ষেপ নিল জলপাইগুড়ি পুরসভা। চালু করল এক নয়া নিয়ম।
সূত্রের খবর, জলপাইগুড়ি পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এখন থেকে জলপাইগুড়ি পুরসভার অন্তর্গত রাস্তায় নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট টিন নম্বরযুক্ত টোটোই চলতে পারবে। যাদের টোটোর পিছনে টিন নম্বর নেই, তাদের শহরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের দফতরে টোটোর বাড়বাড়ন্ত নিয়ে নানা অভিযোগ উঠে আসছিল। তাই প্রশাসন ও পুরসভার একাধিক বৈঠকের পর অবশেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, নির্দিষ্ট টিন নম্বর থাকলেই কেবলমাত্র টোটো শহরে প্রবেশ করতে পারবে। এরফলে একদিকে যেমন টোটোর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আসবে ঠিক তেমনই আবার যে কেউ টোটো নিয়ে এলাকা দখল করবে না।
বাছায় করা খবর নিজের মোবাইলে পেতে
Join Now
কী বলছেন চালকরা?
এই প্রসঙ্গে পুরসভার চেয়ারপার্সন জানিয়েছেন, “শহরের যানজট কমাতে এবং নিয়মিত টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনতে পুরসভার এই সিদ্ধান্ত আশা করি দারুণ সুপ্রভাব ফেলতে পারবে এবং টোটো চালকদেরও সুবিধা হবে, কারণ বাইরের জেলা ও গ্রামাঞ্চল থেকে তখন কেউ স্থানীয় চালকদের ওপর রুট নিয়ে জোর জুলুম করবে না।” এই ক্ষেত্রে টোটো চালক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, “এতে আমাদেরও ব্যাপক সুবিধা হবে। বাইরের এলাকা থেকে আসা টোটোগুলি আমাদের আয়ের ক্ষেত্রে আর প্রভাব ফেলতে পারবে না। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আমরাও সঠিক এবং ন্যায্য ভাড়া পাব।”