বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভারত বিরোধী কার্যকলাপের জন্য শ্রীলঙ্কা নয়! ভারতের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার মাটিকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আশ্বাস দিলেন লঙ্কান (Sri Lanka) প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিশানায়েকে। কার্যত শত্রুদের উদ্দেশ্যে হুঙ্কার ছেড়ে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট জানান, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধচারণ করে এমন কোনও শক্তিকে লঙ্কানভূমি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন
Join Now
চিনকে উদ্দেশ্যে করেই কি এই ইঙ্গিত?
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে চিন যেভাবে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলির ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার খেলায় মেতে উঠেছে, তাতে দিল্লির কপালে চিন্তার ভাঁজ বেড়েছে কয়েকগুণ। এমতাবস্থায়, প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলির ওপর চিনের অর্থনৈতিক আগ্রাসন ও চিনা মদত ভারতের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়ে, প্রতিবেশী দ্বীপ রাষ্ট্রের এহেন কড়া বার্তা যে চিনের জন্য যথেষ্ট চাপের হতে চলেছে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ভারতকে চেপে ধরার লক্ষ্যে বেজিং
ভারতের ঘরে ঢুকতে প্রতিবেশীদের হাত করেছে জিনপিং সরকার। ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের মাটিতে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর তৈরি করে বাণিজ্য শক্তি বৃদ্ধির নামে ভারতের উত্তরাঞ্চলকে একেবারে ঘিরে ধরতে চাইছে বেজিং। একই পথ ধরে ভারতের নিকট প্রতিবেশী বাংলাদেশেও নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে চিনা প্রশাসন।
বাছায় করা খবর নিজের মোবাইলে পেতে
Join Now
যদিও সেই রাস্তা নিজে হাতেই খুলে দিয়েছেন ওপার বাংলার প্রধান মহম্মদ ইউনূস। সম্প্রতি চিন সফরে গিয়ে বাংলাদেশে বাণিজ্য বৃদ্ধি থেকে শুরু করে বিমানঘাঁটি তৈরির একেবারে খুললাম-খুল্লা প্রস্তাব দিয়ে এসেছেন ইউনূস। ফলত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মতো ওপর ওপর সখ্যতা রেখে সুযোগ-সন্ধানকারী দেশগুলির মতো যদি আরেক প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কাকেও হাত করে নেওয়া যায় তবে ভারতকে একেবারে সার্বিক দিক থেকে চেপে ধরা যাবে।
বলা যায়, কার্যত এই পরিকল্পনা নিয়েই ভারতের নাগালে থাকা দেশগুলির সাথে বন্ধুত্ব তৈরি করছে চিন। বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশ মনে করছেন, চিনের এই ছক বানচাল করতেই থাইল্যান্ড সফরের পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শ্রীলঙ্কা সফর।
অবশ্যই পড়ুন: এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভুলেও লটারি কাটবেন না এই ৫ রাশি! কাদের ভাগ্যে লক্ষীলাভ? দেখে নিন
ভারত-শ্রীলঙ্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি
শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক উন্নয়নে চিনের বিরাট বিনিয়োগ দেশটির সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এমতাবস্থায়, চিনের মতো ভারত বিরোধী দেশগুলিকে আটকাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বড় আশ্বাস দিয়ে রাখলেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট। সম্প্রতি সেই স্বার্থেই প্রথমবারের জন্য ভারত-শ্রীলঙ্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হল। দুই দেশের প্রধানের উপস্থিতিতে প্রতিরক্ষা উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কাকে গুছিয়ে তুলতে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাহায্য করতে রাজি হয়েছে দিল্লি।