প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাতিল হয়ে গিয়েছে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীর চাকরি (SSC Recruitment Scam)। যার ফলে রাতারাতি বদলে গিয়েছে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার চিত্র। একদিকে যেমন শিক্ষক শিক্ষিকাদের ভবিষ্যৎ জীবন ঝুলে রয়েছে ঠিক তেমনই মহামুশকিলে পড়েছে রাজ্যের সরকার পোশিত স্কুলগুলি। সদ্য চাকরি বাতিল হওয়া শিক্ষকরা স্কুলে যাবেন কি না, সেই নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। কারণ, শিক্ষা দফতর থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে চারিদিকে বিক্ষোভ এবং আন্দোলন শুরু করেছেন চাকরি প্রার্থীরা।
গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন
Join Now
গোটা মন্ত্রিসভার পদত্যাগ দাবি বিক্ষোভকারীদের
এইমুহুর্তে নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অসংখ্য শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলে ঘরে ঘরে পড়ে গিয়েছে কান্নার রোল। সকলের মুখে শুধু একটাই প্রশ্ন কেন অযোগ্যদের জন্য যোগ্যরাও কাজ থেকে বঞ্চিত হবেন। কেন স্কুল সার্ভিস কমিশন ঠিকভাবে যজ্ঞ অযোগ্য নির্ধারণের করতে পারছেন না। আর এই জটিল সমস্যার জন্য দায়ী করা হচ্ছে রাজ্য সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনকে। বিরোধী রাজনীতিবিদরাও চাকরি বাতিলের দায়ে মুখ্যমন্ত্রীসহ গোটা মন্ত্রিসভার পদত্যাগ দাবি করেছেন। ফলে প্রবল বেকায়দায় পড়েছেন মমতা সরকার। আর এই আবহেই চাকরি নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের এক চাকরিহারা শিক্ষক।
বোমা তৈরির হুমকি শিক্ষকদের
সূত্রের খবর, গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের অভিজিৎ গিরি নামে এক চাকরিহারা শিক্ষক চাকরি বাতিলের ঘটনায় রীতিমত দিশেহারা হয়ে গিয়েছে। গোটা পরিবারকে সামলাবেন কীভাবে তা নিয়ে রীতিমত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছেন তিনি। তাঁর কাছে একটাই রাস্তা এখন, আর সেটি হল বিক্ষোভ। কর্মসূচি। এদিন পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা সদর মেদিনীপুর শহরে পথ অবরোধ করেন বেশ কিছু চাকরিহারা শিক্ষকরা। তাঁদের অভিযোগ ছিল কেন অযোগ্যদের জন্য অসংখ্য যোগ্য প্রার্থীদের এই হেন সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে গিয়েছিল যে অভিজিৎ গিরি নামে ওই চাকরিহারা শিক্ষক হুমকি দিয়ে বলেন, ‘‘যে হাতে অংক করে মেডেল পেয়েছি, সে হাতে বোমাও বাঁধতে পারি ।’’
বাছায় করা খবর নিজের মোবাইলে পেতে
Join Now
অন্যদিকে ওই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অনেকেই গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ে রীতিমতো আন্দোলন দেখাতে থাকেন । তাঁদের বক্তব্য, ‘‘এত বছর ধরে চাকরি করে মান-সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে বেঁচে ছিলাম৷ কিন্তু কাল প্যানেল বাদ হয়ে যাওয়ায় আর স্কুলে থাকতে পারিনি । কী করে মুখ দেখাব আমরা ছাত্রছাত্রীদের কাছে । আত্মীয়স্বজনরাই বা কী ভাবছে?’’ তবে এই অভিযোগ শুধু এক দুইজন চাকরিহারাদের মধ্যে দেখা যায়নি। এই অভিযোগ ছিল সমগ্র শিক্ষক শিক্ষাকর্মীদের। তবে বারংবার বৈঠকে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী, স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সরকারের ওপর ভরসা রাখার কথা জানিয়েছেন।