প্রীতি পোদ্দার, নয়া দিল্লি: ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশকে ‘মাওবাদীমুক্ত’ করার ঘোষণা অনেক আগেই করে দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর সেই নির্দেশ পালন করতেই ২০২৩ সালে বিজেপি ছত্তীসগঢ়ের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পুরো শক্তি কাজে লাগিয়ে মাওবাদী দমন অভিযানে নেমে পড়েছে সেনা বাহিনী। আর সেই অভিযানে একের পর এক এনকাউন্টারে প্রাণ হারিয়েছে অসংখ্য মাওবাদী (Maoists)। এনকাউন্টারের পর নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। আর এই আবহে এবার শান্তির প্রস্তাব দিয়ে মাথা নত করতে চায় মাওবাদীরা।
গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন
Join Now
মাওবাদীদের তরফে বিবৃতি প্রকাশ
সম্প্রতি একটি সমীক্ষা মারফত জানা গিয়েছে, গত ১৫ মাসে মাওবাদী পরিবারের ৪০০ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। আর এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না মাওবাদী গোষ্ঠী। এবার শান্তির পথে হাঁটতে চান তাঁরা। তাই এই আবহে সম্প্রতি মাওবাদী মুখপাত্র অভয় তেলেগু ভাষায় এক বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। সেখানে কেন্দ্র ও রাজ্যের উদ্দেশে বিবৃতি জারি করে মাওবাদীদের সেন্ট্রাল কমিটির তরফে জানানো হয়েছে যে, ‘অভিযান বন্ধ করুন, আমরা যুদ্ধবিরতিতে রাজি।’ এমনকি সেই বিবৃতি মারফত এও জানা গিয়েছে যে, অভিযান বন্ধ করলে মাওবাদীরা কেন্দ্র ও রাজ্যের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতেও রাজি আছে।
কী জানানো হয় সেই বিবৃতিতে?
এদিন এই বিবৃতিতে মাওবাদী মুখপাত্র অভয় আরও জানিয়েছেন যে “ এর আগে ছত্তিশগড়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজয় শর্মা শান্তি আলোচনার জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু বিশেষ জোনাল কমিটির তরফে শর্ত দেওয়া হয়েছিল নিরাপত্তাবাহিনী ক্যাম্পে থাকুক আপত্তি নেই, কিন্তু কোনওরকম অভিযান যেন চালানো না হয়। তবে সরকার সে প্রস্তাব না মানায় গত ১৫ মাসে প্রায় ৪০০ জনের বেশি নেতা, কমান্ডার, পিএলজি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।” তাই এবার শান্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব এই প্রথমবার নয়, ২০২১ সালেও একবার দেওয়া হয়েছিল মাওবাদীদের তরফ থেকে। কিন্তু কিছু শর্তে রাজি হয়নি তৎকালীন সরকার।
বাছায় করা খবর নিজের মোবাইলে পেতে
Join Now
তাই মাওবাদীদের তরফে ফের শান্তির বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, “মানুষের স্বার্থে আমরা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব করছি। আমাদের দাবি, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানায় অভিযানের নামে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা হোক। নিরাপত্তাবাহিনীর জন্য যে নতুন ক্যাম্প তৈরি করা হচ্ছে তা বন্ধ করা হোক। সরকার যদি আমাদের প্রস্তাবে সাড়া দেয় তাহলে আমরাও যুদ্ধবিরতিতে রাজি।”