প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নিয়োগে দুর্নীতির (SSC Case) অভিযোগ ওঠায় গত বছর কলকাতা হাই কোর্টে মামলা চলছিল। সেই সময় সমস্ত দিক পর্যবেক্ষণ করে গোটা প্যানেল বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ। কিন্তু সেই রায় না মানায় এই মামলার জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। কিন্তু আজ সুপ্রিম কোর্টেও বাতিল করা হল স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২০১৬ সালের প্যানেল। চাকরি খোয়াল ২৬ হাজার চাকরি প্রার্থী। বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার পর্যবেক্ষণ, “গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া ভুলে ভরা। তাই কলকাতা হাই কোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপে করা উচিত নয়।”
গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন
Join Now
গত ১০ ফেব্রুয়ারি ছিল নিয়োগ দুর্নীতি মামলার শেষ শুনানি। সেই সময় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI জানিয়েছে, তারা চাইছে, কলকাতা হাই কোর্টের ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের রায় বহাল থাকুক। সেই সময় এসএসসি বা স্কুল সার্ভিস কমিশন জানিয়েছে, র্যাংক জাম্প বা প্যানেল বহির্ভূত নিয়োগের তথ্য থাকলেও ওএমআর শিট কারচুপির তথ্য তাদের কাছে নেই। তাতেই বোঝা গিয়েছিল হাইকোর্টের পথেই হাঁটবে কেন্দ্রীয় সরকার। এদিকে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, একসঙ্গে এতজন শিক্ষকের চাকরি বাতিল করা হলে বাংলার শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। কিন্তু সবপক্ষের সওয়াল শোনার পর আজ প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না চূড়ান্ত রায় শোনালেন।
কান্নায় ভেঙে পড়লেন প্রার্থীরা
এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে যে, যাঁরা যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন তাঁরা আগে যেখানে কাজ করতেন সেখানে পুরোনো চাকরি ফেরত পাওয়ায় জন্য তিনমাসের মধ্যে আবেদন জানাতে পারবেন। রাজ্য সরকারকে এই আবেদন দ্রুত বিবেচনা করে দেখতে হবে। তবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের চাকরি গেলেও বেতন বন্ধ হবে না। বেতন ফেরতও দিতে হবে না। পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মানবিকতার খাতিরে বেতন পাবেন বিশেষ চাহিদা সম্পন্নরা। অন্যদিকে এসএসসি মামলা ফৌজদারি তদন্ত চলবে আগের মতোই। এদিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরই কান্নায় ভেঙে পড়লেন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। এক শিক্ষক বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে সততার কোনও দাম নেই।’
বাছায় করা খবর নিজের মোবাইলে পেতে
Join Now
বহাল থাকবে সোমা দাসের চাকরি
রাজ্য সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রতি ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করলেন শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী। তিনি বলেন, ‘প্যানেলের সবাই অযোগ্য হতে পারে না। যারা দুর্নীতির কারিগর সেই রাজ্য সরকার এবং এসএসসির মাথাদের কঠোর শাস্তি কে দেবে?” এছাড়াও তিনি বলেন সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে এক ধাক্কায় যেখানে যোগ্যদের বাতিল করার ফলে বিদ্যালয় শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে মুখ থুবড়ে পড়বে ঠিক তেমনই বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা এর সম্পূর্ণ সুযোগ নেবে। এদিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ মামলার পুরো প্যানেল বাতিল হলেও ক্যানসার আক্রান্ত প্রার্থী সোমা দাসের চাকরি বহাল রাখা হয়েছে।
চুপ করে থাকেনি বিরোধী দলগুলি। আজ সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সরকারকেই দুষেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্টির লোকেরা অযোগ্য, যারা পয়সা দিয়ে চাকরি পেয়েছিল, তাদের চাকরি বাঁচানোর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ২৬ হাজার মানুষের চাকরির বলিদান দিয়ে দিল। এর জন্য সম্পূর্ণ দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা দেশ জেনে গেল , এত বড় একটা দুর্নীতি হয়েছে। এই মামলার পিছনে কত কোটি টাকা খরচ হয়েছে, তাও প্রকাশ্যে আসা উচিত।”