বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) এক নির্দেশেই বৃহস্পতিবার চাকরিহারা হয়েছেন রাজ্যের 26 হাজার বেতনভুক্ত কর্মী। হ্যাঁ, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বহাল থেকেই এদিন 26 হাজারের চাকরি বাতিলে সিলমোহর দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ।
গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন
Join Now
তবে শুধু চাকরি বাতিলে করেই থেমে থাকেনি সুপ্রিম কোর্ট। এদিন চাকরিহারাদের 2016 সাল থেকে পাওয়া বেতনের ওপর 12 শতাংশ সুদ সমেত মোট অর্থ ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। প্রশ্ন থাকছে, তাহলে কি প্রত্যেককেই বেতন ফেরত দিতে হবে? আদতে কারা অযোগ্য? রইল বিস্তারিত।
ঠিক কী রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট?
SSC শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির ঘটনায় বহুদিন ধরেই চাকরি খোঁয়ানোর আশঙ্কায় ভুগছিলেন বহু অযোগ্য। অবশেষ, বৃহস্পতিবার সেই আশঙ্কায় সিলমোহর পড়েছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জানান, শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ জানিয়েছে, 2016 সালে নিয়োগ হওয়া গোটা প্যানেল অর্থাৎ 26 হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিল করা হল।
বাছায় করা খবর নিজের মোবাইলে পেতে
Join Now
যদিও হাইকোর্টের রায়ের পর অনেকেই ভেবেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ চাকরি গেলেও রোজগারের অর্থে কিছুটা মানবিকতা দেখাতে পারে শীর্ষ আদালত। তবে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে একেবারে ভিন্ন ছবি ধরা পড়ল। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, চাকরি বাতিলের পাশাপাশি অযোগ্যদের 12 শতাংশ সুদ সহ বেতনের অর্থ ফেরত দিতে হবে। আর এই রায়ের পরই প্রশ্ন উঠছে, ঠিক কাদের বেতন ফেরত নেবে সরকার? চলুন হিসেবটা বুঝে নিই।
কাদের বেতন ফেরত দিতে হবে?
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যে সকল শিক্ষক-শিক্ষিকারা আদতে অযোগ্য, মূলত তাঁদেরকেই বেতনের অর্থ ফেরত দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানিয়েছেন, কলকাতা হাইকোর্টের তরফে তৈরি হওয়া 3 ক্যাটাগরি অনুযায়ী, যারা ব্ল্যাঙ্ক OMR শিট জমা দিয়েছিলেন তাঁদের নামের তালিকায় ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে। সূত্র বলছে, 26 হাজারের মধ্যে চিহ্নিত সকল অযোগ্য ব্যক্তিদের 2016 সাল থেকে পাওয়া মোট বেতনের সাথে 12 শতাংশ সুদের হারে টাকা ফেরত দিতে হবে।
কত জনকে টাকা ফেরত দিতে হবে?
বেশ কয়েকটি রিপোর্ট মারফত এখনও পর্যন্ত যা খবর, প্যানেলে নাম না থাকা সত্ত্বেও যারা চাকরি পেয়েছেন, শুধুমাত্র সাদা খাতা জমা দিয়ে যারা চাকরি পেয়েছেন, OMR শিটে জালিয়াতি করে যারা চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককেই পুরো বেতন ফেরত দিতে হবে। সেই সাথে গুনতে হবে মোটা সুদের অঙ্কও। এখন প্রশ্ন অযোগ্যদের সংখ্যা কত হতে পারে?
বলে রাখি, বোর্ড ও রাজ্যের তরফে এখনও পর্যন্ত অযোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তালিকা দেওয়া হয়নি। তবে SCC যে তথ্য দিয়েছে, তাতে খুব সম্ভবত 5 হাজার 485 জনের কাছ থেকে 2016 সালের প্রথম বেতন থেকে শুরু 2024 পর্যন্ত মোট প্রাপ্ত বেতনের ওপর সুদ চাপিয়ে মোটা টাকা আদায় করা হবে। তবে একাধিক হিসেবের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে। বিশিষ্ট আইনজীবীরা জানাচ্ছেন, সংখ্যাটা একেবারে 5 হাজারের কম হবে না।
অবশ্যই পড়ুন: ১০০ দিনের শ্রমিক সেজে প্রতারণা! মহম্মদ শামির বোন ও শ্যালকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা
উল্লেখ্য, বিভিন্ন বিভাগের অযোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মোট বেতনের ওপর 12 শতাংশ সুদ চাপিয়ে জরিমানা আদায় করবে সরকার। তবে সেক্ষেত্রে, হিসেবটা থাকবে শুধুই 2024 সাল পর্যন্ত। কারণ, গত বছরই কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলায় বেতন ফেরানোর নির্দেশ দেয়।
বিশেষ আপডেট: সদ্য সুপ্রিম কোর্টের চাকরি বাতিলের রায়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চাকরিহারাদের বেতন ফেরতের বিষয়টিকে সামনে এনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। আমি বিচারপতিদের সম্মান জানাই। বহুদিন আইনজীবী হিসেবেও লড়াই করেছি। কিন্তু নাগরিক হিসেবে এই রায় মানতে পারছি না। বিচারপতিদের উদ্দেশ্যে সম্মান জানিয়েই বলছি, যারা চাকরি করছেন তাঁদের টাকা ফেরত দিতে হবে না। রায়ে উল্লেখ আছে।’ তিনি এও জানান যে, তিন মাসের মধ্যেই নিয়োগ শুরু করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।