সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সকালে ঘুম থেকে উঠে আমরা প্রথমেই যে জিনিসটি খুঁজি, তা হল স্মার্টফোন। ফোনে সময় দেখা থেকে শুরু করে, ম্যাসেজ চেক করা, ফোন করা, গান শোনা কিংবা বিনোদন, সবকিছুই আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু কেমন হবে, যদি ফোন ছাড়াই সব কাজ সেরে ফেলা যায়? কি ভেবে অবাক লাগছে? কিন্তু এমনই এক প্রযুক্তির দিকে পা বাড়াচ্ছেন ইলন মাস্কের সংস্থার নিউরালিঙ্ক (Neuralink)।
গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন
Join Now
জানা যাচ্ছে, বিশ্বের অন্যতম ধনী উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক স্মার্টফোনের দিন শেষ করতে চলেছেন। তার কোম্পানির নিউরালিঙ্ক এবার এমন এক প্রযুক্তি আনতে চলেছে, যেখানে শুধুমাত্র মস্তিষ্কের চিন্তাশক্তি ব্যবহার করেই সব কাজ করা যাবে।
কীভাবে কাজ করবে এই চিপ?
জানা গিয়েছে, নিউরালিঙ্কের তৈরি ‘ব্রেন কম্পিউটার ইন্টারফেস’ আসলে একটি ক্ষুদ্র চিপ, যা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মস্তিষ্কে বসানো হবে। আর এই চিপ মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের সঙ্গে সরাসরি কানেক্টেড থাকবে। ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সাহায্যে খুব সহজেই আমাদের মস্তিষ্ক কাজ করবে।
বাছায় করা খবর নিজের মোবাইলে পেতে
Join Now
ধরুন, আপনি ফোন করতে চাইলেন। তাহলে আপনাকে আর ফোনে হাত দিতে হবে না। শুধু মনে মনে ভাবলেই আপনার মস্তিষ্কের মাধ্যমে সেই কাজ হয়ে যাবে। গান শুনতে চাইলে ফোন ধরার দরকার পড়বে না। একবার ভাবলেই আপনার মস্তিষ্ক সরাসরি আপনাকে গান শুনিয়ে দেবে। এমনকি ভবিষ্যতে ভিডিও দেখা, কেনাকাটা করা, আর্থিক লেনদেন করার মতো কাজও স্মার্টফোন ছাড়াই সম্ভব হবে।
পরীক্ষায় সফল হয়েছে নিউরালিঙ্ক
ইতিমধ্যেই নিউরালিঙ্ক দুজন স্বেচ্ছাসেবকের উপর চিপের পরীক্ষা করেছে। আর পরীক্ষায় সফলও হয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, এর কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বেশ কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছে, AI ডিভাইস নির্মাণকারী সংস্থাগুলি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে, যা গোপনীয়তার ক্ষেত্রে বড়সড় প্রশ্ন তুলছে।
পাশাপাশি অস্ত্রোপচার করতে সামান্যতম ভুল হলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এমনকি রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। তাছাড়া মানবদেহে বিদ্যুৎচালিত যন্ত্র কতটা কার্যকর হবে, সেটা সময়ই বলে দেবে। বিজ্ঞানীরা মনে করছে, মানুষের চিন্তাভাবনার সঙ্গে প্রযুক্তি সরাসরি সংযুক্ত হলে বড় ধরনের নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ভবিষ্যৎ কেমন হবে?
যদি ইলন মাস্কের এই পরিকল্পনা সফল হয়, তাহলে আমাদের জীবনে আর স্মার্টফোনের দরকারই পড়বে না। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই প্রযুক্তি কি সত্যিই সফল হবে? সাধারণ মানুষের কাছে কি এই প্রযুক্তি সহজলভ্য হবে? এখন তা আসল সময়ে বলা যাবে। আমাদের বরং কিছুদিন অপেক্ষা করে যেতে হবে।