সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনে যখন বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব মাথাচড়া দিয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই নতুন মোড় নিল ভারত ও মার্কিন সম্পর্ক। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বাজার। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের উপর শুল্ক চাপিয়ে দিয়েছে। আর ভারতও সেই তালিকা থেকে বাদ যায়নি। তবে আশার আলো দেখা যাচ্ছে একটাই, এই নতুন শুল্ক নীতির প্রভাবে ভারতে স্মার্টফোন উৎপাদন খাতে এক বিরাট সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন
Join Now
ভারত হতে পারে অ্যাপল-স্যামসাংয়ের হাব
বিশ্ববাজারে এখন ভারত ইলেকট্রনিক্স রপ্তানিতে ভালো জায়গা তৈরি করে নিয়েছে। চলতি অর্থবছরে অ্যাপল একাই ভারত থেকে ৮ থেকে ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের আইফোন রপ্তানি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এমনটাই খবর। ভারত ও চীন মূলত অ্যাপলের উৎপাদন কেন্দ্র। তবে এই নতুন শুল্ক নীতিতে চীনের উপর ট্রাম্প ৫৪% শুল্ক চাপিয়ে দিয়েছে। আর ভারতের উপর সেখানে মাত্র ২৭% চাপ পড়েছে। আর শুল্কের তুলনামূলক কম প্রভাবেই বাজিমাত করতে পারে ভারত।
মেড ইন ইন্ডিয়ার দাপট
ভারতের মাটিতে এখন অ্যাপল তাদের উৎপাদনের দায়িত্ব দিয়েছে ফক্সকন এবং টাটা কোম্পানির হাতে। এই সংস্থাগুলির মাধ্যমে তৈরি হওয়া স্মার্টফোনে যাচ্ছে বিদেশের বাজারে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখন উৎপাদন সহযোগী সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আর এই মুহূর্তে বাণিজ্যিক আলোচনায় এই সম্পর্ক ভারতকে বেশ সুবিধা দেবে বলেই মনে করছে বেশ কিছু বিশেষজ্ঞ।
বাছায় করা খবর নিজের মোবাইলে পেতে
Join Now
বাণিজ্য চুক্তিই ভারতের ভবিষ্যৎ
এখন সব সম্ভাবনার চাবিকাঠি রয়েছে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির হাতে। ভারতীয় আধিকারিকরা জানাচ্ছে, অ্যাপল, গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা এই সমস্ত প্রযুক্তি জায়েন্টদের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু হয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল কর বাতিলের পর ভারত চাইছে এই সংস্থাগুলিকে নিজেদের হাতে নিয়ে আসতে। আর এতে ভারতের অবস্থান হবে আরও পাকাপোক্ত।
রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড
হিসাব বলছে, গত নভেম্বর মাসে ভারত স্মার্টফোন রপ্তানিতে ২০ হাজার কোটি টাকার গণ্ডি পার করেছে, যা এক বিশ্ব রেকর্ড। আর এই বৃদ্ধির নেতৃত্বে রয়েছে অ্যাপল এবং স্যামসাং। এর থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, ভারতকে ভবিষ্যতে গ্লোবাল স্মার্টফোন উৎপাদনের হাব হিসাবেই চিহ্নিত করছে আন্তর্জাতিক বাজার।
এবার সঠিক কূটনীতি এবং কৌশল প্রয়োগ করে যদি বাণিজ্যিক চুক্তির পথে এগোনো যায়, তাহলে বিশ্বজুড়ে মেড ইন ইন্ডিয়া স্মার্টফোন সবথেকে জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।