চীনের বাইটড্যান্সের কাছ থেকে জনপ্রিয় সোশ্যাল ভিডিয়ো প্ল্যাটফর্ম টিকটক (TikTok) কিনে নেওয়ার লক্ষ্যে হোয়াইট হাউসে প্রস্তাব পাঠালো অ্যামাজন (Amazon)। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিককে একটি চিঠিতে প্রস্তাবটি পাঠিয়েছে ধনকুবের জো বেজসের মালিকানাধীন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ওই ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম।
বর্তমানে, আমেরিকায় নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া ঝুলছে টিকটকের ভাগ্যে। মূল সংস্থা বাইটড্যান্স থেকে বেরিয়ে আসলে তবেই ভবিষ্যতে পরিষেবা চালিয়ে যেতে পারবে তারা। তাই একমাত্র পথ হিসাবে কোনও মার্কিন সংস্থার হাতে টিকটকের নিয়ন্ত্ৰণ তুলে দিতে হবে তাদেরকে। পূর্বতন বাইডেন সরকারের অভিযোগ ছিল, টিকটক আমেরিকার নাগরিকদের গোপনীয় তথ্য চুরি করে চীনে পাঠাচ্ছে। যদিও সেই দাবি অস্বীকার করে বাইটড্যান্স।
অ্যামাজন কেন টিকটক কিনতে আগ্রহী
অনলাইন শপিংয়ে টিকটকের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের কারণেই অ্যামাজনের আগ্রহ জন্মেছে। এই ভিডিয়ো প্ল্যাটফর্মে ১৭ কোটি মার্কিন নাগরিক ব্যবহার করে। টিকটক একটি শক্তিশালী ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে যেখানে ইনফ্লুয়েন্সার বা নেটপ্রভাবীরা পণ্য প্রচার করে। টিকটক তার নিজস্ব অনলাইন স্টোর, টিকটক শপ পরিচালনা করলেও, অনেকে ইউজার অ্যামাজনের দিকে ট্র্যাফিক পাঠিয়ে অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের মাধ্যমে কমিশন অর্জন করে।
টিকটককে টেক্কা দিতে এর আগে নিজেদের শপিং অ্যাপের মধ্যে ইন্সপায়ার নামের একটি শর্ট-ফর্ম শপিং ফিচার চালু করেছিল অ্যামাজন। কিন্তু বিপুল লগ্নি করা সত্ত্বেও, এই উদ্যোগ জনপ্রিয়তা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়। ফলস্বরূপ এই বছরের শুরুতে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে টিকটক কিনে অনলাইন শপিংয়ের বাজারে নিজেদের আধিপত্য প্রসারের চেষ্টা করতে পারে সংস্থাটি। কিন্তু বাইটড্যান্স এখনও টিকটক বিক্রি করতে রাজী নয়।
টিকটক বিকল্প সমাধান হিসাবে ওরাকল এবং ব্ল্যাকস্টোনের মতো প্রথম সারির মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা চালাচ্ছে। তবে এগুলি ফেডারেল নিয়ম মেনে চলবে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। এক কথায়, সময়সীমা দ্রুত এগিয়ে আসার সাথে সাথে, টিকটকের মার্কিন কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। অ্যামাজন নাকি অন্য কোনও কোম্পানি প্ল্যাটফর্মটি অধিগ্রহণে সফল হবে? নাকি টিকটক তাদের মার্কিন ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার কোনও উপায় খুঁজে পাবে, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।