সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলার শহরগলির উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে এবার ৪৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রশাসনিক সুত্র মারফত জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার কেন্দ্র থেকে নবান্নে এই সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। মিলিয়ন প্লাস সিটি প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের ১১৮টি পৌরসভা এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। তবে এই অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়াটি যথাসময়ে সম্পন্ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছে প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন
Join Now
বিলম্বের জন্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বাধা
নবান্ন সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এই অর্থ আগের অর্থবছরেই পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষদিকে এসে তা রাজ্যের হাতে পৌঁছেছে। কারণ টাকা আটকে রাখার ঘটনা কেন্দ্রের কাছে নতুন কিছু নয়। ফলে নগরোন্নয়ন প্রকল্পগুলি সাময়িকভাবে কিছুটা থমকে গিয়েছে। যদিও কেন্দ্র সরকারে এই বিলম্বের কারণ সম্পর্কে মুখ খোলেনি। তবে প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছে, প্রশাসনিক নানা কারণেই টাকা পাঠাতে দেরি হয়েছে।
কোথায় ব্যয় হবে এই অর্থ?
এই ৪৬২ কোটি টাকার তহবিল মূলত শহরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো খাতে ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে। যেমনটা জানা যাচ্ছে নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি, পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করা, রাস্তা সংস্কার প্রকল্প, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং শহরের অন্যান্য জরুরী কাজে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। ইতিমধ্যেই প্রশাসন এই অর্থ ব্যয় নিয়ে চূড়ান্ত পরিকল্পনা সেরে ফেলেছে।
বাছায় করা খবর নিজের মোবাইলে পেতে
Join Now
রাজ্য সরকারের অভিযোগ
রাজ্য সরকার বহুদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, কেন্দ্র সরকার ঠিক মত টাকা দেয় না। যদিও এই ৪৬২ কোটি টাকা পাওয়া কিছুটা স্বস্তির খবর হলেও সময় মতো টাকা না পাওয়ায় উন্নয়ন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। উপর মহলের আধিকারিকরা মনে করছে, যদি এই অর্থ আগে আসতো তাহলে শহরাঞ্চলের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ অনেক আগেই শুরু করা যেত।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এই বিপুল পরিমাণে অর্থ লোকসভা নির্বাচনের পড়ে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। তৃণমূল কংগ্রেস গ্রামাঞ্চলে ভালো ফল করলেও শহরাঞ্চলে এতদিন বিজেপির দাপটই ছিল সর্বাধিক। ইতিমধ্যেই ১১৮টি পৌরসভার মধ্যে অনেক এলাকাতে বিজেপি ভালো ফল করেছিল। তবে শহরাঞ্চলের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিতে জোর দিয়ে ভোটারদেরকে আকৃষ্ট করতে চাইছে জয় বাংলা বাহিনী। তবে দেরিতে পাওয়া এই অর্থ কীভাবে দ্রুত ব্যয় করা হয় এবং শহরের উন্নয়ন কীভাবে সম্ভব হয় সেটাই এখন দেখার।