বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি দেখে কার্যত মাথায় হাত পড়েছে পাকিস্তানের! প্রতি মুহূর্তে ভারতকে প্যাঁচে ফেলার ফন্দি করতে থাকা পড়শি মুলুক যেন এবার ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রের (Hypersonic Missile) ভয়ে গুটিয়ে রয়েছে! হ্যাঁ, সম্প্রতি এমন তথ্যই ফাঁস করেছে বালুচিস্তান থিঙ্ক ট্যাঙ্কের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অধ্যাপক জাফর খান। তাঁর কথায়, ভারতের ব্যালিস্টিক মিসাইলের বহর ও উন্নতি দেখে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে পাক প্রধানমন্ত্রীর কপালে।
গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন
Join Now
ভারতীয় ব্রহ্মাস্ত্রের ভয়ে কাপাঁছে পাকিস্তান?
সম্প্রতি বালুচিস্তান থিঙ্ক ট্যাঙ্কের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জাফর খান জানিয়েছেন, ভারত যেভাবে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে শক্তি বৃদ্ধি করছে, ব্যালেস্টিক মিসাইলের যে হারে উন্নতি হচ্ছে ভারতে, তা দেখে মাথায় হাত পড়েছে পাক প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ISI-র। জাফর জানান, ভারতের প্রযুক্তিগত অস্ত্র উৎপাদন, ব্রহ্মস সহ বিভিন্ন উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন মিসাইল তৈরিতে চাপে পড়ে গিয়েছে পাকিস্তান।
ওই ডিরেক্টর আরও বলেন, ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা DRDO যেদিন 15 হাজার কিলোমিটার পাল্লার হাইপারসনিক গ্লাইড ভেইক্যাল মিসাইল প্রকাশ্যে এনেছে, কার্যত সেদিন থেকেই ঘুম উড়েছে পাক প্রধানমন্ত্রী শেববাজ শরীফ সহ পাকিস্তানি গোয়েন্দা বিভাগের একাধিক উচ্চ পদস্থ আধিকারিকের।
বাছায় করা খবর নিজের মোবাইলে পেতে
Join Now
সূত্রের খবর, ভারতীয় মিসাইলের উন্নতি দেখে নাকি দ্রুত উত্তর কোরিয়া ও চিনের কাছে কোনও পাল্টা প্রযুক্তির মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়া যায় কিনা, তা খোঁজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পাক সেনাকর্তাদের। পাক প্রধানমন্ত্রীর মনোভাবে, এ কথা প্রায় নিশ্চিত যে ভারতের এক মিসাইলই গোটা পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিক্যালের ক্ষমতা
ভারতের যে উচ্চশক্তি সম্পন্ন হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিক্যাল দেখে ঘুম উড়েছে ইসলামাবাদের, তার শক্তি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী অনেকেই। সেই প্রসঙ্গেই বলে রাখি, DRDO-র হাত ধরে প্রকাশ্যে আসা গ্লাইড ভেহিক্যাল উচ্চ শক্তি সম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্মিত হচ্ছে রাশিয়ান প্রযুক্তিতে।
জানা যাচ্ছে, এটি যেহেতু হাইপারসনিক মিসাইল ফলত, এর গতি শব্দের পাঁচগুণ, বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে ম্যাক 5। সূত্রের খবর, রুশ প্রযুক্তিতে তৈরি মিসাইলটি হাইপারসনিক গ্লাইড ভেজিক্যালে বসিয়ে ছোঁড়া যাবে বহু দূরের গন্তব্য পর্যন্ত।
বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম দাবি করছে, ইসলামাবাদের ভয়ের কারণ এই মিসাইলটি শত্রু পক্ষকে নিশানায় এনে ধ্বংস করতে একশো শতাংশ কার্যকরী। জানা গিয়েছে, প্রযুক্তির ভেলকি দেখিয়ে অন্যান্য মিসাইল গুলিকে বোকা বানানো গেলেও এই ভারতীয় মিসাইলটির সাথে সেই একই ব্যবহার করা সম্ভব নয়।
অবশ্যই পড়ুন: জিততে পারেন কোটি টাকা! এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে লটারি ভাগ্য ৭ রাশির
বলা বাহুল্য, ইউক্রেনের সাথে যুদ্ধ চলাকালীন এই মিসাইলটিকে অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ইউক্রেনের ওপর প্রয়োগ করেছিল রাশিয়া। রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ পর্যন্ত তৈরি যত ধরনের হাইপারসনিক ক্রুজ মিসাইল রয়েছে সবকটিকেই নিশানা এনে একেবারে চুরমার করে দিতে পারে ভারতের এই হাইপারসনিক মিসাইল। বিশেষজ্ঞদের সিংহভাগই দাবি করছেন, শত্রুপক্ষ চাইলেও আধুনিক যুদ্ধ পদ্ধতি প্রয়োগ করে এই মিসাইলটিকে বাগে আনতে পারবে না। হয়তো সেই কারণেই ভারতের এই হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইল পাকিস্তানের ভয়ের অন্যতম কারণ।