প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ এ লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় প্রথম দফায় ভোট হয়েছিল ১৯ এপ্রিল। এবং দ্বিতীয় দফার ভোট হয়েছিল ২৬ এপ্রিল। আর ঠিক সেই সময় অর্থাৎ প্রথম দফার ভোট হয়ে যাওয়ার ২২ এপ্রিল কলকাতা হাই কোর্ট ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC Case) পুরো প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিল। চাকরিহারা হয়ে পড়েছিল প্রায় ২৬ হাজার চাকরিপ্রার্থী। তাই তড়িঘড়ি সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিল রাজ্য সরকার। তখনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, যে তিনি কারও চাকরি খোয়াতে দেবেন না। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি এবার ভঙ্গ হল। ঠিক এক বছর পর এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টও হাই কোর্টের সেই নির্দেশই বহাল রাখল। বাতিল হল ২৬ হাজার প্রার্থীর চাকরি।
গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন
Join Now
তড়িঘড়ি বৈঠকের আহ্বান মমতার
গত এক বছর ধরে একাধিক শুনানি হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। ‘যোগ্য’ এবং ‘অযোগ্য’ বাছাই করার কথা বলা হয়েছিল আদালতের তরফে থেকে। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। ফলে হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত এর তরফে জানিয়েছে, তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। আর এদিকে শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পরেই বিশেষ বৈঠক ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে তলব করলেন মুখ্যমন্ত্রী। দুপুর তিনটেয় শিক্ষামন্ত্রী-সহ শিক্ষাদফতরের বিশেষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী।
কী বলছেন বিধানসভার স্পিকার?
নবান্নের বৈঠকে শিক্ষাসচিব বিনোদ কুমার বলেন, “আমরা দ্রুত বসছি সকলে, সুপ্রিম কোর্টের কী অর্ডার রয়েছে, সেটা গোটাটা ভালো করে দেখা হবে। এরপর পরবর্তী কী পদক্ষেপ করা হবে, তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” এছাড়াও কোর্টের ফ্রেশ সিকেকশন প্রসেস নিয়ে শিক্ষাসচিব বলেন, “এটা আমার পক্ষে এখনই বলাটা কঠিন। কারণ এখন টিমের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করা হয়নি। বসতে হবে সবাইকে নিয়ে। নির্দেশনামা ভাল করে পড়তে হবে। তারপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।” অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রসঙ্গে বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “এই রায় পুনরায় বিবেচনা করার মতো সুযোগ আছে। সব দিক থেকে বিচার করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টে আরও বড় বেঞ্চে গেলে হয়তো পুনরায় বিবেচনা হবে এই রায়। তাই এইমুহুর্তে পুরো রায় না দেখে মন্তব্য করব না।”
বাছায় করা খবর নিজের মোবাইলে পেতে
Join Now
ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের তরফে অযোগ্যদের তিনটে ক্যাটাগরি করে দেওয়া হয়েছে। কারা কারা ব্ল্যাঙ্ক OMR শিট জমা দিয়েছিলেন, তাঁদের নামের তালিকা ইতিমধ্যেই তৈরি করা রয়েছে। এছাড়াও আরও অনেকেই অযোগ্য থাকতে পারেন, তাঁদের বাছাই সম্পূর্ণরূপে এখনও করা সম্ভব হয়নি। তাই সেক্ষেত্রে পুঙ্খানুপুঙ্খ নির্দেশনামা সামনে না আসা পর্যন্ত এই ‘ফ্রেশ সিলেকশন’-এ কারা অংশগ্রহণ করতে পারবেন এবং কোন রূপরেখার ভিত্তিতে তা নির্ধারিত হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সবটাই ভালো ভাবে আরও যথাযোগ্য ভাবে জানা যাবে আজকের এই নবান্নের বৈঠকের পর।